Basic Aspects of Islam (ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলি)

নামাজ পড়া কালীন যদি কিছু ক্ষণ পর পর শরীর থেকে বায়ু বের হয় মত সন্দেহ লাগে এবং নামাজের সময়ও দুই রাকাতের জায়গায় তিন রাকাত, চার রাকাতের জায়গায় তিন রাকাত হয়ে যাচ্ছে এই রকম সন্দেহ লাগে, তাহলে কি নামাজ হবে?? কিংবা উহার করণীয় কি??

আসসালামু আলাইকুম। নামাযে কারও যদি বারবার এরকম কোন সন্দেহ আসে তাহলে তাদের উচিত প্রত্যেক নামাযের আগে সর্বপ্রথম দোয়া-দরূদ পড়ে পরিপূর্ণ সুন্নাত তরীকায় মনোযোগের সহিত ওযূ করা। তারপর কয়েকবার ইস্তিগফার পড়ে নামায শুরু করা। এভাবে চেষ্টা করতে থাকলে আশা করা যায় নামাযে এরকম সন্দেহ আসবে না, ইন শা আল্লাহ।   তথ্যসূত্র – মাওলানা কাসেম রেজা নঈমী সাহেব …

কেউ যদি ফরজ নামাজ দাড়িয়ে পড়ে আর সুন্নাত ও নফল নামাজ বসে পড়ে তাহলে কি শরিয়ত সম্মত কোন সমস্যা হবে?

আসসালামু আলাইকুম। সমস্ত ফরয নামায, বিতর এবং ফযরের সুন্নাতে দাঁড়ানো ফরয। যদি বিনা কারণে এসব নামায বসে পড়া হয়, তাহলে নামায আদায় হবে না। নফল নামায বসে পড়লেও আদায় হয়ে যাবে তবে সওয়াব অর্ধেক পাবে। পবিত্র হাদীস শরীফে এসেছে, “বসা অবস্থায় নফল  আদায়কারীর নামায, দাঁড়িয়ে নফল আদায়কারীর অর্ধেক।”  বিনা কারণে বা সামান্য কারণে বসে নামায …

‘জুমু’আতুল বিদায়’ ওমরী কাযা সম্পর্কে জানতে চাই।

আসসলামু আলাইকুম।  ✅ জুমু’আতুল বিদায় ওমরী কাযা নামাযের গুণাহ মাফের জন্য ১২ রাকআত “নফল” নামায এর কথা বলা হয়েছে। অর্থ্যাৎ ২ রাকআত নফল নামাযের নিয়্যত করে করেই ১২ রাকআত আদায় করতে হবে।  ✅ উক্ত সূরা গুলি সব প্রতি রাকআতেই পড়তে হবে।  ✅ যোহর এবং আসর এর মধ্যবর্তী সময়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে।  ✅ মুনাজাত ৪ …

যদি ফজর আর যোহর কাযা হয়ে যাই তাহলে কি আসরের নামাজের সময় সেই কাযা নামাজ গুলো কি পড়তে পারবে?

আসসালামু আলাইকুম। কাযা নামায তারতীব অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়, যেমন, ফযর, যোহর কাযা হলে প্রথমে ফযর, তারপর যোহর, তারপর আসর এভাবে পড়তে হবে। ৫ ওয়াক্ত পর্যন্ত কাযা হলে এ ধারাবাহিক তারতীব পালন করতে হবে । কারো যে কোন ওয়াক্ত থেকে নামায কাযা হলে আগে কাযা নামায আদায় করে তারপর যে ওয়াক্তের নামায আসবে তা আদায় …

যোহরের নামাজের ওয়াক্তের শেষ সময় কয়টা পর্যন্ত থাকে? আসরের শেষ সময় সূর্য অস্তের কয় মিনিট আগে শেষ হয় এবং মাগরিবের শেষ সময় মাগরিবের আযানের পর কয় ঘন্টা থাকে?

আসসালামু আলাইকুম। যোহরের নামাযের ওয়াক্ত- দ্বি-প্রহরের সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে প্রত্যেক জিনিসের ছায়ামূল ব্যতিত দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।অর্থাৎ, ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় কোন জিনিসের ছায়া যদি চার আঙ্গুল পরিমাণ থাকে,আর জিনিসটি হলো আট আঙ্গুল পরিমাণ লম্বা,তাহলে ওই জিনিসটার ছায়া যখন সর্বমোট বিশ আঙ্গুল পরিমাণ হবে,তখন যোহরের নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে।  ✅ আসরের নামাযের ওয়াক্ত- যোহরের …

জীবনের কাযা নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে কেউ যদি প্রতি ওয়াক্তের নামাজের আগে কাযা আদায় করতে চাই, নিয়তটা কি কাযা নামাজের নিয়তটা করলে হবে নাকি বাংলা নিয়তটা করতে হবে?

আসসালামু আলাইকুম।  যে ব্যক্তি বালেগ হবার পর যথারীতি পাঞ্জেগানা নামায আদায় করেনি এবং জীবনে তার অনেক ওয়াক্বতের নামায ক্বাযা হয়ে গিয়েছে, এরূপ ব্যক্তি অনুমান করে অতীতের ক্বাযা নামাযসমূহ সম্পন্ন করাকে ‘ওমরী কাযা‘ বলা হয়। এর সহজ নিয়ম এ যে, প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের সাথে সমপরিমাণ ফরয নামায ক্বাযা হিসেবে পড়তে থাকা। এভাবে ক্বাযা আদায় করতে করতে …

ইশরাক এর নামাজ আর দ্বোহার নামাজে কি সুন্নাতুর রাসূলিললাহি বলতে হবে নাকি নফল মোতোয়াজজিহান বলতে হবে ?

আসসালামু আলাইকুম আপু। ইশরাক এবং দ্বোহার নামায হলো সুন্নাতে গায়র মোআক্কাদাহ, অর্থাৎ নফল পর্যায়ের নামায। রাসুলে পাক (দ) নিয়মিত এই নামায আদায় করতেন বিধায় এর নিয়্যতে ‘সুন্নাতে রাসুলুল্লাহ’ বলা হয়ে থাকে। কিন্তু ‘সুন্নাতে রাহুলুল্লাহ’ বললেও আদায় হবে নফল হিসেবে। ↪️ তথ্যসূত্র- গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব।(পৃ-১৮৩)

দ্বোহার নামাজের টাইম কয়টা থেকে শুরু হয়? কেউ যদি ইশরাকের নামাজ ৬ টায় পড়ি, এর পর দ্বোহার নামাজ ও পরে ফেলা যাবে কিনা?

আসসালামু আলাইকুম। দ্বোহার নামাযকে ‘চাশতের নামায’ও বলা হয়ে থাকে। ইশরাকের নামাজের পর হতেই চাশতের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয়ে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত থাকে। যেহেতু এর সময় দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত থাকে, তাই আপনি দ্বিপ্রহরের আগে যেকোনো সময়ই এ নামায আদায় করতে পারবেন।   ↪️ তথ্যসূত্রঃ গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব। (পৃষ্ঠাঃ ১৮৩)  

ফজরের আযানের পর নামাজ পড়ার আগে বা পরে কি কোনো নফল নামাজ পড়া যায়?

আসসালামু আলাইকুম। সুবহে সাদেক্ব থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের দু’রাকাত সুন্নাত ব্যতীত অন্য কোন নফল নামায পড়া জায়েয নয়। এছাড়া ওমরী কাযা নামাজ বা আগের কাযা নামায পড়া যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ঠিক সূর্যোদয়ের সময় কোন ধরনের ফরয, ওয়াজিব, নফল, ক্বাযা নামাজ পড়া নিষেধ। তথ্যসূত্র- গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব, (পৃ-১৪০) ; মু’মিনের নামায। (পৃ-৮১)  

এশার নামাজের পর শাফী’উল বিতর দুই রাকাত নামাজ না পড়লে কি এশার নামাজ হবেনা, এটা কতটুকু সত্য?

আসসালামু আলাইকুম।  বিতর-এর পরে দু’ রাকা’আত নফল নামায(শাফী’উল বিতর) পড়া উত্তম। সে দু’ রাকা’আতের প্রথম রাকা’আতে “اِذَا زُلْزِلَتِ الْاَرْضُ” সুরা যিলযাল এবং দ্বিতীয় রাকা’আতে “قُلْ يٰۤأيُّهَا الْكَافِرُوْنَ” ( সুরা কাফিরুন)পড়া উত্তম। হাদিস শরিফে এসেছে যে, ” যদি রাতে সজাগ না হতে  পারে তাহলে এই দু’ রাকা’আত তাহাজ্জুদের স্হলাভিষিক্ত হয়ে যাবে। বি:দ্র: ইশার নামায শাফী’উল বিতর …