অসুস্থতার কারণে একটিও রোজা রাখতে পারেননি? কাফফারা নাকি ফিদইয়া— করণীয় কী?

অসুস্থতার কারণে একটিও রোজা রাখতে পারেননি? কাফফারা নাকি ফিদইয়া— করণীয় কী?

আসসালামু আলাইকুম।

যে ব্যক্তি মাহে রমজানে ভীষণ রোগে আক্রান্ত থাকে এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পারদর্শী চিকিৎক যদি রোযা পালন করলে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন কিংবা রোগাক্রান্ত ব্যক্তি রোযা রাখতে সম্ভবপর না হয়, সেক্ষেত্রে সে রোযা না রাখার অনুমতি আছে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে সুস্থ হলে অবশ্যই একটি রোযার পরিবর্তে একটি রোযা কাযা আদায় করবে।  অর্থাৎ যদি সে শারীরিক অসুস্থতার জন্যে ৩০টি রোযা-ই রাখতে না পারে তাহলে সে পরে ৩০টি রোযা কাযা আদায় করে দিবে। 

আর যদি এমন অসুস্থ বা অতিশয় বৃদ্ধ ব্যক্তি, যাদের ভবিষ্যতেও রোযা রাখতে পারার আশা করা যায় না তবে প্রত্যেকটি রোযার পরিবর্তে ফিদিয়া স্বরূপ একজনের ফিতরা বরাবর দুই সের তিন ছটাক আধা তোলা= দুই কেজি পঞ্চাশ গ্রাম গম বা আটা বা সমপরিমাণ মূল্য একজন মিসকীনকে প্রদান করবে।

যদি রোযার ফিদিয়া আদায় করার পর পরবর্তীতে রোযা রাখার শক্তি এসে যায়, তবে রমযানের প্রতিটি রোযার বদলে একটি করে রোযার ক্বাযা করবে। তখন ফিদিয়া নফল সদকাহ হিসেবে গণ্য হবে। কাযা আদায় কিংবা ফিদিয়া প্রদানের পূর্বেই যদি তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তিনি সম্পদ রেখে যান আর রোযার ফিদিয়া আদায় করতে ওসীয়ত করে যান তবে অবশ্যই তার পক্ষ হতে প্রতি রোযার বিনিময়ে পূর্বোল্লিখত ফিদিয়ার পরিমাণ অনুযায়ি প্রদান করবে। আর যদি ওসীয়ত না করে যান এবং সম্পদ রেখে যান তাহলে মৃত ব্যক্তির কাযা নামায ও কাযা রোযার ফিদিয়া প্রদান করা খুবই উপকারী এবং উত্তম।

সুস্থ ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হওয়ার নিছক খেয়াল অথবা বাহানা করে রোযা ছেড়ে দেয়ার অনুমতি নেই। দৃঢ় ধারণা ও পূর্ণ বিশ্বাসের তিনটি ধরন বা লক্ষণ আছেঃ এক, রোগ বৃদ্ধির বা জীবন নাশের বাহ্যিক লক্ষণ পাওয়া গেলে, দুই. নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং তিন. এমন অভিজ্ঞ ও পারদর্শী মুসলিম ডাক্তারের পরামর্শ; যে ফাসেক নয়। উক্ত বিষয়সমূহের কোন একটি পাওয়া না গেলে বরং নিছক খেয়াল ও কল্পনার ভিত্তিতে বা ফাসিক্ব ডাক্তারের পরামর্শক্রমে রমযানের রোযা ভঙ্গ করলে ক্বাযা ও কাফ্ফারা উভয়টা আবশ্যক হবে। উল্লেখ্য যে, কোন অনভিজ্ঞ চিকিৎসক সামান্য সর্দির মত রোগের কারণেও রোযা ভঙ্গের নির্দেশ ও পরামর্শ দিলে তার পরামর্শক্রমে রোযা ভঙ্গ করা যাবে না।

তথ্যসূত্র- গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব।(পৃ-২৩৭)

সৌজন্যে: অনলাইন প্রশ্নোত্তর ডেস্ক, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।