গর্ভবতী বা নবজাতক মা—রোজা পালন সংক্রান্ত মাসাইল ও করণীয় কী?

গর্ভবতী বা নবজাতক মা—রোজা পালন সংক্রান্ত মাসাইল ও করণীয় কী?

গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী মহিলা রোযা রাখলে নিজের জীবনের বা গর্ভের শিশুর বা দুগ্ধপায়ী শিশুর জীবন নাশের আশঙ্কা হয়, তাহলে রমজানের ফরজ রোযা না রাখার অনুমতি আছে বা ভঙ্গ করতে পারে। তবে শারীরিক জটিলতা না থাকলে রমজান মাসে রোযা রেখে দিতে পারলে ভালো, আর রাখতে না পারলে এর বদলে পরবর্তীতে সুস্থ হলে একটি রোযার বদলে একটি করে কাযা আদায় করে দিতে হবে, কাফফারা বা ফিদইয়া দিতে হবে না। কেননা, ফিদইয়ার বিধান হলো ঐসব ব্যক্তিদের বেলায় যাদের পরবর্তীতে সুস্থ হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না৷ যারা পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে যাবে তাদের ক্ষেত্রে ফিদইয়া প্রযোজ্য নয় বরং একটি রোজার বদলে একটি করে এভাবে প্রতিটি রোজার বদলে একটি করে কাযা আদায় করে দিতে হবে।

যদি কোনো অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তার বলেন যে রোযা রাখার ফলে গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী মহিলা নিজের জীবনের বা গর্ভের শিশুর অথবা দুগ্ধপায়ী শিশুর ক্ষতি বা জীবন নাশের আশঙ্কা হয়, তাহলে রোযা না রাখার অনুমতি আছে বা রোযা ভঙ্গ করতে পারে৷ পরবর্তীতে সুস্থ হওয়ার পর রমযানের প্রতিটি রোযার বদলে একটি করে ক্বাযা করবে। মুসলিম চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া রোজা ছাড়া বা রাখা যাবে না।

পবিত্র অবস্থায় রোজা রাখার পর যদি সন্তান প্রসব হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং পরে তা কাজা করতে হবে। রোজা অবস্থায় শিশুকে দুধ পান করালে রোজা ভঙ্গ হয় না।

সন্তান জন্মদান পরবর্তী রক্তস্রাব তথা নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা হল ৪০ দিন। যদি নেফাস থেকে কোন নারী ৪০ দিন হওয়ার আগেই পবিত্র হয়ে যায়, তাহলে যথারীতি রোজা রেখে দিবে এবং নামাজ আদায়ের জন্য ফরজ গোসল করে নেবে। বর্তমান যুগে মেডিকেল সাইন্সের উৎকর্ষের কারণে সন্তান প্রসবকালীন বিভিন্ন ঔষধের মাধ্যমে পরিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যায়, বিধায় অনেক নারীর খুব কমসময়ই প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব লক্ষ করা যায়, এক্ষেত্রে বোনেরা রোজা বা নামাজ প্রসঙ্গে বহু দ্বিধায় ভুগেন। অতএব বলা যায় যে, এক্ষেত্রে নেফাসের বিধানও হায়েযের মতই, অর্থাৎ নেফাসের সময়সীমা ৪০ দিনের ভিতরে যতদিনই দেখা যাবে, তা যদি একেবারে কম তথা দুই, তিন বা পাঁচ দিনও হয়, অথবা একেবারে দশ, পনের বা বিশ দিনও হয়, সেক্ষেত্রেও নেফাসের সময়সীমার ভিতরে প্রবাহিত হলেই সেটিকে নেফাস হিসেবে ধরে নেয়া হবে। আর এ অবস্থায় রোজা মাফ করা হয়েছে, তবে পরবর্তীতে কাযা আদায় করে দিতে হবে। প্রসব পরবর্তী নেফাসের ৪০ দিনের ভিতরে যদি কিছুদিন রক্তপাত হয়ে আবার বন্ধ হয়ে যায়, ফরজ রোযা রেখে দিবে, কিন্তু যদি আবারও কিছুদিনপর শুরু হয় এবং সেটা ৪০ দিনের ভিতরেই হয়ে থাকে, তাহলে সেই দিনগুলোকেও কাযা রোজার আওতায় গণনা করে নিতে হবে এবং পরবর্তীতে আদায় করে দিতে হবে।       

 

তথ্যসূত্র- কানযুল ঈমান

গাউসিয়া তারবিয়াতী নিসাব বাহারে শরীয়ত (৫ম খণ্ড) ফতোয়ায়ে শামী (রদ্দুল মুহতার)

গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের “দা’ওয়াতে খায়র অনলাইন প্রশ্নোত্তর” হতে সংগৃহীত