সালাতুল হাজত নামাযের নিয়ম কী?
আসসালামু আলাইকুম।
সালাতুল হাজতঃ আবূ দাঊদ শরীফে হযরত হুযায়ফাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, যখন হুযূর আক্বদাস সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র সম্মুখে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসে পড়তো তখন তজ্জন্য নামায পড়তেন- ২ রাক’আত বা ৪ রাক’আত। এ ৪ রাক’আত নামাযের ফলে হাজত বা চাহিদা পূরণ হয়৷
সালাতুল হাজত পড়ার নিয়ম ১:
এই নামাজ দুই/চার রাকআত এর নিয়্যতে পড়তে হয়।
▪️১ম রাকআতে সূরা ফাতিহা পাঠের পর ১০০ বার এ আয়াত পড়বেন-
لاَ إلٰه إِلاَّ اَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْناَهُ مِنَ الْغَمّ وَكَذٰلِكَ نُنْجِي الْمُؤمِنِيْنَ
উচ্চারণঃ লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায’জলিমিন, ফা’সতাজাবনা লাহু ওয়া নাজ্জায়নাহু মিনাল গম্মি ওয়া কাযালিকা নুনজিইল মু’মীনিন।
▪️তারপর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১০০ বার নিম্নলিখিত আয়াত পাঠ করবেন-
رَبّ اَنّيْ مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَاَنْتَ اَرْحَمُ الَّراحِمِيْنَ
উচ্চারণ- রব্বি আন্নি মাসসানিয়াদ’দুররু ওয়া আনতা আরহামুর র’হিমিন।
▪️তারপর তৃতীয় রাক’আতে সুরা ফাতেহার পর নিম্নলিখিত আয়াত পাঠ করবেন-
وَاُفَوّضُ اَمْرِيْ اِلَي اللهِ أِنَّ اللهَ بَصِيْرُّم باِلْعِبَاد
উচ্চারণ- ওয়ায়ুফা উইদু আমরি ইলাল্লাহি ইন্নাল’হা বাসিরু’ম বিল ইবাদ।
▪️তারপর চতুর্থ রাক’আতে সুরা ফাতেহার পর নিম্নলিখিত আয়াত পাঠ করবেন-
,حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ نِعْمَ الْمَوْلٰي وَنِعْمَ النَّصِيْرُ
উচ্চারণ- হাসবুনাল্লাহু ওয়ানিমাল ওয়াকিল নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাসির।
নিয়্যত
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّيَ لِلّٰهِ تَعَالٰی رَكْعَتِ صَلٰوۃِ الْحَاخَةِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللّٰهُ اَكْبَرُـ
উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন্ উসোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা’আ-লা- রাক’আতাই সোয়ালা-তিল হাজাতি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা- জিহাতিল কা’বাতিশ শারী-ফাতি আল্লা-হু আকবর।
নিয়ম-২ঃ আবূ দাঊদ শরীফে হযরত হুযায়ফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, যখন হুযূর আক্বদাস সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র সম্মুখে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসে পড়তো তখন তজ্জন্য নামায পড়তেন- ২ রাক’আত বা ৪ রাক’আত। হাদীস শরীফের বর্ণনানুসারে, প্রথম রাকাআতে সূরা ফাতিহার পর ৩ বার আয়াতুল কূরসী এবং দ্বিতীয় রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর ১ বার সূরা ইখলাস পড়বেন। এরপর আরো ২ রাকআত পড়লে উভয় রাকআতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর ৩য় ও ৪র্থ রাকআতে যথাক্রমে সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস ১ বার করে পড়বেন। এ ৪ রাক’আত নামাযের সওয়াব শবে ক্বদরের নামাযের সমান এবং এর ফলে হাজত বা চাহিদা পূরণ হয়। মাশায়েখ হযরাতে কেরাম বলেছেন এটি পরীক্ষিত।
দুইটি নিয়মই সঠিক। অতএব যার যে নিয়মে মর্জি সে নিয়মে পড়তে পারেন৷
তথ্যসূত্রঃ আমলে শরীয়ত ও সহীহ্ নামায শিক্ষা।-(পৃ-৬৩)
ওযীফা-ই গাউসিয়া।-(পৃ-২২৩)


