মহিলাদের ইতিকাফ: কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন?
আসসালামু আলাইকুম।
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়্যত সহকারে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। মহিলারা ঘরে ই’তিকাফ করবে। ঘরে নির্দিষ্ট কোন ইবাদতখানা থাকলে সেখানে ইতেকাফ নিবে অথবা একটি নির্দিষ্ট কামরায়। সবচেয়ে সুবিধা হয় বাথরুম সংলগ্ন কামরায় ইতেকাফ নিলে।
সময়: ২০ রমযান সূর্যাস্তের পূর্বে ইতেকাফ এর নিয়্যত করে নির্দিষ্ট কামরায় প্রবেশ করবে এবং ৩০ রমযান বা ২৯ রমযান চাঁদ উদয়ের সঠিক খবর জানার পর ইতেকাফ থেকে বের হবেন। যদি কেউ ২০ রমযান সূর্যাস্তের পূর্বে ইতেকাফ এর নিয়্যত করলেন কিন্তু নির্দিষ্ট কামরায় প্রবেশ করলেন না অথবা ৩০ রমযান বা ২৯ রমযান চাঁদ উদয়ের সঠিক খবর না জেনে ইতেকাফ থেকে বের হলেন এমতাবস্থায় ইতেকাফের সুন্নাতে মোআক্বাদা আদায় হবে না।
শর্ত:ই’তিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মুসলমান, বিবেক সম্পন্ন (যে পাগল নয়) এবং মহিলার বেলায় হায়য (মাসিক ঋতুস্রাব ও নিফাস-প্রসবোত্তরকালীন রক্তক্ষরণ) থেকে মুক্ত হওয়া জরুরী ও পূর্বশর্ত।
নিষিদ্ধ কার্যাবলী: মহিলাদের বেলায় ঘরের নির্ধারিত কামরা থেকে বের হওয়া হারাম, শরঈ কারণ ব্যতীত যেমন, প্রস্রাব-পায়খানার জন্য বের হওয়া।
করণীয়: ই’তিকাফরারী যেন একেবারে চুপচাপ না থাকে এবং দুনিয়াবি কথাবার্তাও না বলে; বরং এ’তিকাফাবস্থায় ক্বোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, অধিক পরিমাণে দরুদ শরীফ পাঠ, হাদীস, তাফসীর, ফ্বিকাহ ও ধর্মীয় কিতাবসমুহ এবং নবী-ওলীগণের জীবনী পাঠ করবে। বস্তুতঃ সময়টি ইবাদাতে অতিবাহিত করার চেষ্টা করবে। পানাহার ঐ নির্দিষ্ট কামরায় করবে এবং খাবার আনা নেওয়া অন্য কেউ করবে।
বর্জনীয়: দুনিয়াবী কথাবার্তা ও কাজকর্ম থেকে বিরত থাকবে। এসময় কারো সাথে গল্পগুজব করবে না৷ কোন প্রকার অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা চাই।
বি:দ্র:* ছোট বাচ্চা প্রতিপালনে পার্থিব কাজ অধিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাই ছোট বাচ্চার মা ইতেকাফ না নেয়াই শ্রেয়, যেহেতু বাচ্চা ছোটাছুটি করলে মা রুম থেকে বের হতে পারবেন না বা বাচ্চার সাথে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়।
তথ্যসূত্রঃ মাওলানা কাসেম রেজা নঈমী সাহেব হুজুর। [মুদাররিস,জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা ফাযিল মাদরাসা।]
গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব। (পৃষ্ঠা: ২৪৫,২৪৬)
সৌজন্যে: অনলাইন প্রশ্নোত্তর ডেস্ক, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।


