দাম্পত্য জীবনে রোজার মাসাইল: কী করা যাবে, কী যাবে না?

দাম্পত্য জীবনে রোজার মাসাইল: কী করা যাবে, কী যাবে না?

বৈবাহিক জীবন প্রতিটি মুসলিম নারীর জীবনেই রমজানের রোজা প্রসঙ্গে নতুনভাবে কিছু মাসাইল বা জিজ্ঞাসার উদ্ভব করে থাকে। ইসলামী শরীয়তের আলোকে মহান মাস রমজানকে সর্বোচ্চ তা’জীমের সাথে প্রতিপালনের লক্ষ্যে বোনদেরকে দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেও রোজার মাসাইল অবশ্যই খেয়াল করে মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

  • স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর গোসল ফরজ হলে অতি দ্রুততার সাথে ফরজ গোসল আদায় করে নিতে হবে। কোন মহিলার উপর গোসল ফরজ অবস্থায় নিজে সাহরি করা বা পরিবারের সাহরি খাবারের আয়োজন করলে কোন ক্ষতি নেই। অথবা, সারাদিন গোসল না করলেও রোযা আদায় হয়ে যাবে। তবে এভাবে ইচ্ছাকৃত দীর্ঘক্ষণ গোসল না করা জঘন্য গুনাহ ও হারাম। এছাড়া নামাজ কাযা হয়ে যাওয়ার গুনাহও রয়েছে। অতএব, যেকোন অবস্থায় দ্রুত সুবহে সাদিকের পূর্বেই ফরজ গোসল আদায় করে যথারীতি ফজরের নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত সঠিক ওয়াক্তে আদায় করতে সচেষ্ট হতে হবে।
  • রাত মনে করে ভোরে অথবা সুবহে সাদেকের সময় বা বাধ্য হয়ে সহবাস করলে, পরে জানতে পারলো যে, তখন সুবহে সাদেক ছিল, সেক্ষেত্রে রোজাটি ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং কাযা আদায় ওয়াজিব হবে। রমযান মাসে সুবহে সাদিকের পূর্বে সহবাসে নিয়োজিত হলো, সুবহে সাদিক হওয়ার সাথে সাথে পৃথক হয়ে রমজানের রোজা শুরু করে দিলে, উক্ত দিনের রোযার কাযা করা ভাল। কাফফারা নয়।
  • নিদ্রাবস্থায় বা বেহুশ অবস্থায় সহবাস, উত্তেজনাবশত যেকোন কাজের কারণে বীর্যপাত হলেই রোযাটি ভেঙ্গে যাবে এবং পরবর্তীতে কাযা আবশ্যক হবে। বীর্যপাত না হলে কাযা ওয়াজিব হবেনা। রমজানের মহিমান্বিত সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ রোজার বিধান পালনকালীন এধরণের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার সর্বোচ্চ প্রয়াস থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, রোজা অবস্থায় দাম্পত্য সম্পর্কের স্বাভাবিক অনেক হালাল কাজ ও স্পর্শও মাকরূহ এবং পরবর্তীতে তা যদি বীর্যপাতের কারণ হয়, তবে তা জঘন্য গুনাহরূপে সাব্যস্ত হবে। তাই রোজা পালনকালীন স্বামী-স্ত্রীর আচরণে সংযতভাব বজায় রাখাও একান্ত জরুরী। রোযা স্মরণ না থাকা অবস্থায় ভুলবশতঃ দিনের বেলায় সহবাস করে ফেললেও মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল, তবে রোযার কথা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই তা পরিহার করতে হবে, নয়ত রোজা নষ্ট হয়ে যাবে ও জঘন্য গুনাহের অংশীদার হতে হবে, নাউযুবিল্লাহ।   

নিয়্যত ও সাহরী ছাড়া রমজানের দিনের বেলায় সুবহে সাদেক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সহবাস না করলেও পরবর্তীতে এক দিনের রোযা কাযা করতে হবে। অনেকে সাহরীর সাথে রোজার সম্পৃক্ততা বিষয়ে জানতে চান। সাহরী খাওয়া সুন্নাত ও অত্যন্ত বরকতময়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা পানি খেয়ে হলেও সাহরী করো’। তবে কেউ যদি রাতে রোজা রাখার নিয়্যত করে থাকেন এবং সাহরী খেতে না পারেন তবে রোজা হয়ে যাবে৷

 

তথ্যসূত্র– কানযুল ঈমান

গাউসিয়া তারবিয়াতী নিসাব বাহারে শরীয়ত (৫ম খণ্ড) ফতোয়ায়ে শামী (রদ্দুল মুহতার)

গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের “দা’ওয়াতে খায়র অনলাইন প্রশ্নোত্তর” হতে সংগৃহীত