দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে মারা যাওয়া বয়স্ক ব্যক্তির অনাদায়ী নামাজ ও রোজার কাফফারা তার পরিবার পরিজন দিতে পারবে?

দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে মারা যাওয়া বয়স্ক ব্যক্তির অনাদায়ী নামাজ ও রোজার কাফফারা তার পরিবার পরিজন দিতে পারবে?

 আসসালামু আলাইকুম।

ফিক্বহ শাস্ত্রের পরিভাষায় মৃত ব্যক্তির যিম্মায় যে সব ফরজ-ওয়াজিব অনাদায়ী রয়ে যায়, ওইগুলো থেকে তাঁকে দায়মুক্ত করার নাম হলো ইসক্বাত।

ইসক্বাতের নিয়ম-  প্রথমে মৃত ব্যক্তির বয়স নির্ধারণ করুন। অতঃপর মহিলার বেলায় ৯ বছর এবং পুরুষের বেলায় ১২ বছর বাদ দিন। এখন যত বছর অবশিষ্ট আছে, এতে হিসাব করে দেখুন কত দিন তিনি বে-নামাযী বা বে-রোজাদার ছিলেন বা এর ক্বাযাও আদায় করেননি। এর একটা আনুমানিক হিসাব নির্ণয় করুন। সেই হিসাব অনুযায়ী প্রতি ওয়াক্তের জন্য এক ফিতরা পরিমাণ হিসাব করুন। প্রতিটি রোজার জন্যেও *এক ফিতরা* করে হিসাব করুন। তাহলে এক দিনে ছয় নামাযের (পাঁচ ফরয, এক ওয়াজিব বিতর) জন্য ফিদিয়া আসে পনর সের গম, আর এক মাসের জন্য ১১ মণ গম এবং এক বছরের জন্য আসে ১৩২ মণ গম। যদি কারো যিম্মায় বিশ বছরের অনাদায়ী থেকে যায়, তাহলে কয়েক হাজার মণ গম খয়রাত করতে হবে। হয়তো কোন বড় ধনীর পক্ষে তা সম্ভব হবে, কিন্তু গরীবের পক্ষে তা অসম্ভব। 

তাদের জন্য একটি উপায় হলো- মৃতের ওয়ারিশের সামর্থানুসারে এক মাসের গম বা এর সমমূল্যের টাকা নেবে এবং কোন মিসকীনকে দিয়ে দেবে। ওই মিসকীন আবার অন্য মিসকীনকে বা স্বয়ং মালিককে দান করবে। সে পুনরায় ওই মিসকীনকে সদক্বা করবে। প্রত্যেক বারে সদক্বায় এক মাসের নামাযের ফিদিয়া আদায় হয়ে যাবে। এভাবে ১২ বার সদক্বা করলে এক বছরের ফিদিয়া আদায় হয়ে গেলো। এভাবে বকেয়া কয়েকবার আদান প্রদান করলে সম্পূর্ণ ফিদিয়া আদায় হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।  নামাযের ফিদিয়া আদায় করার পর এভাবে রোজার ফিদিয়া আদায় করুন। এতে আশা করা যায়, দয়াময় আল্লাহ তা’আলা মাফ করবেন। এটাই হচ্ছে ইসক্বাত এর সঠিক নিয়ম। 

তথ্যসূত্র-গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব। (পৃ-২০৭)